—————
মুশরিকদের পক্ষে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রস্তাব আসলো,
আমরা একবছর আপনার রবের ইবাদত করবো, পরের বছর আপনি আমাদের রবের; আপোষের প্রস্তাব!
আল্লাহ তা’আলা নাযিল করলেন সূরা কাফিরুন; না-ইবাদতে উৎসবে কোনো আপোষ নেই, তোমাদেরটা নিয়ে তোমরা থাকো, আমি আমারটা নিয়ে;
لكم دينكم ولي دين؛ ফায়সালা হবে বিচার দিবসে
মুশরিকদের সাথে কোনো আপোষ নয়, এটা আমার চেতনা!
আজ ৩১ ডিসেম্বর। রোমান পৌত্তলিকরা বছর শেষ করতো তাদের জানুস দেবতার সামনে আনন্দ উদযাপন করে, এ যেনো ভালোভাবে বছর শেষের কৃতজ্ঞতা, নতুন বছরে ভালো থাকার প্রত্যাশা!
কারণ তাদের বিশ্বাস ছিল সব মঙলের মালিক এই দেবতা!
আমরা মুসলমান, আমরাও কি জানুসের কাছে কৃতজ্ঞ? আমাদের ভবিষ্যত প্রত্যাশাও কি এই দেবতার কাছে?
তাহলে কি রাসূলকে দেওয়া মুশরিকদের প্রস্তাব তাঁর উম্মত মেনে নিচ্ছে?
কালিমাও পড়ি, আবার থার্টিফার্স্ট উদযাপন?!!
ওহে মুনাফিক, ওহে ভণ্ড, জেনে রাখো, শোনে রাখো;
لكم دينكم ولي دين
তোমার এই মুনাফিকী নীতি নিয়ে তুমি থাকো, আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি আমাদের রবের, আমাদের প্রত্যাশাও আমাদের রবের কাছে;
ফায়সালা হবে বিচার দিনে;
অপেক্ষায় আছি, তুমিও থাকো!!!
১লা জানুয়ারী-কে “New Year’s Day” হিসেবে উদযাপনের ইতিহাসঃ
_______________________
.
‘ঈসা ইবনে মারইয়াম (আলাইহিস সালাম) এর জন্মের ৪৬ বছর আগে থেকেই ১লা জানুয়ারী কে “New Year’s Day” হিসেবে পালন করে আসছিল রোমক সম্রাটগণ। আধুনিক গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারও সেই ধারাবাহিকতায় ১লা জানুয়ারীকে বছরের দিন বা “New Year’s Day” হিসেবে পালন করে আসছে।
.
প্রশ্ন হচ্ছে কোথা থেকে ১লা জানুয়ারী এলো? ইতিহাসে দুই রকম বর্ণনা পাওয়া যায় এই বিষয়ে।
.
(১) রোমান সাম্রাজ্যের মুশরিকরা Janus (জানুস) নামে এক ঈশ্বরের ইবাদত করত যাকে তারা “God of gates, doors, and beginnings” বা “শুরুর স্রস্টা” হিসেবে মানতো। মূলতঃ তারা অনেক জন সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাসী ছিল। তার মধ্যে Janus ছিল অন্যতম। Janus এর মূর্তির দুইটি মাথার একটি সামনের দিকে মুখ করা এবং অন্যটি পেছনের দিকে মুখ করা। দু’পাশে দু’টি মাথা দ্বারা নির্দেশ করে Janus সামনে ও পেছনে – সবদিকেই দেখতে পায়। প্রতীকী ভাবে এটি বুঝায় – Janus অতীত ও ভবিষ্যৎ দেখতে পায় ও ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা রাখে। এই Janus এর নাম অনুসারে বছরের প্রথম (beginning) মাসের নাম দেয়া হয় January। ১লা জানুয়ারী কে “New Year’s Day” হিসেবে পালন করার মূল উপাদ্য ছিল যাতে তাদের ঈশ্বর Janus খুশি হয়, যাতে তাদের বছরের যাত্রা শুভ হয়। স্বাভাবিক ভাবেই ৩১ ডিসেম্বরের আনন্দ উদযাপন সেই Janus এর প্রতি একটি ভালো যাত্রার আনন্দময় সমাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের অনুসঙ্গ হয়ে উঠত।
[সুত্রঃ
ক. The Calendar of the Roman Republic, Michels, A K. p. 97-98.
খ. Roman Religion, Warrior Valerie. p. 110]
.
(২) পশ্চিম ইউরোপের অধিকাংশ দেশ ১৭৫২ সাল থেকে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারকে অনুসরণ করার আরো অনেক আগে থেকেই ১লা জানুয়ারীকে “New Year’s Day” হিসেবে পালন করে আসছে। খ্রিস্টীয় মতবাদ অনুসারে ‘ঈসা (আলাইহিস সালাম) এর জন্মের অষ্টম দিন তাঁর খাতনা (Circumcision) করা হয়েছিল এবং সেই কারণে একটি প্রীতিভোজের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখান থেকেই ১লা জানুয়ারীতে আনন্দ প্রকাশ করত তারা। এখন পর্যন্ত Anglican Church এবং Lutheran Church এই রীতি অনুসারে ১লা জানুয়ারীতে আনন্দ প্রকাশ করে।
[সুত্রঃ
ক. Dictionary of Theological Terms, McKim, Donald. p. 51.
খ. A Companion for the festivals and fasts of the Protestant Episcopal Church, Hobart, John Henry. p. 284]
.
_______
পুনশ্চঃ
_______
“তাদের কি এমন শরীক দেবতা আছে, যারা তাদের জন্যে সে ধর্ম সিদ্ধ করেছে, যার অনুমতি মহান আল্লাহ দেননি? যদি চুড়ান্ত সিন্ধান্ত না থাকত, তবে তাদের ব্যাপারে ফয়সালা হয়ে যেত। নিশ্চয়ই জালিমদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।”
[সুরা আশ-শুরা, আয়াত ২১]
.
রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেন, “যে ব্যক্তি যে জাতির সাদৃশ্য গ্রহণ করে, সে তাদেরই অন্তর্ভূক্ত।”
[সুনানে আবু দাউদঃ হাদীস ৪০৩১]
.
.
ধর্ম যার যার, বুঝ-ও তার তার।
copied & edited